ডিজিটাল মার্কেটিং- এ বড় বড় বিজনেস পিছিয়ে আছে !!??

অনেক বড় বড় বিজনেস আছে যারা মনে করে, যেহেতু ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তাদের সরাসরি সেলস আসছে না, তাই ডিজিটাল মার্কেটিং করে লাভ নেই। অনলাইন প্রেজেন্স (Online Presence) থাকাটা তাদের কাছে অপ্রয়োজনীয়, সময়ের অপচয় বা একটা বাজে ইনভেস্টমেন্ট বলে মনে হয়।

আপনার চিন্তাও যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন সরাসরি সেলস না এলেও ডিজিটাল মার্কেটিং আপনার বিজনেসের জন্য কেবল জরুরিই নয়, বরং টিকে থাকার অন্যতম হাতিয়ার।

মার্কেটিং মানেই শুধু সেলস নয়

  • গ্রাহকরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনাকে খুঁজে পাবে।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং আপনার ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল মার্কেটিং একটি কার্যকরী উপায়।
  • একটি সফল ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন আপনার ব্র্যান্ডের স্মৃতি গড়ে তুলবে।

প্রথমেই বুঝতে হবে, ব্র্যান্ডিং (Branding) বা মার্কেটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সেলস ড্রাইভ (Sales Drive) করা নয়। বিষয়টা এমন নয় যে, আমি মানুষকে আউটরিচ (Outreach) করলাম আর তারা সাথে সাথেই আমার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিনে নিল। মার্কেটিংয়ের আসল কাজ হলো মানুষের মনে আপনার ব্র্যান্ডের জন্য একটি জায়গা তৈরি করা। যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সরাসরি কাস্টমার ফেসবুকে নেই, সেখানে অনলাইন প্রেজেন্স রেখে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মার্কেটিংয়ের বহুবিধ পারপাস (Purpose) এর মধ্যে, যা তাৎক্ষণিক সেলসের অনেক ঊর্ধ্বে।

ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা তৈরিতে ডিজিটাল মার্কেটিং সাহায্য করে।

বিজনেসে ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?

রিকল ভ্যালু তৈরি করা: যখন গ্রাহক আপনাকেই খুঁজবে

  • ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে সঠিক মূল্য নির্ধারণ সম্ভব।
  • সাফল্য অর্জনের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অপরিহার্য।

মার্কেটিংয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো রিকল ভ্যালু (Recall Value) তৈরি করা। যখন কোনো নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের ডিমান্ড (Demand) তৈরি হবে, গ্রাহকের মাথায় যেন সবার আগে আপনার ব্র্যান্ডের নাম আসে।

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। আমরা যদি আইসক্রিমের কথা বলি, তাহলে দেখবেন ইগলু (Igloo) বা পোলার (Polar) এর নাম আমাদের মাথায় সবার আগে আসছে, অর্থাৎ তারা ‘টপ অফ দ্য মাইন্ড’ (Top of the Mind) এ আছে। কেন? কারণ বছরের পর বছর ধরে তাদের বিজ্ঞাপন আমাদের চোখে পড়েছে, তাদের অনলাইন ও অফলাইন এক্সপোজার (Exposure) আমাদের ব্রেনে একটি জায়গা করে নিয়েছে। এই ব্র্যান্ডগুলোকে আমরা দেখে দেখে অভ্যস্ত।

  • নতুন প্রতিযোগীদের মোকাবেলা করতে ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ।
  • ঠিক এভাবেই অনলাইন প্রেজেন্স আপনার ব্র্যান্ডকে মানুষের স্মৃতিতে গেঁথে দেয়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা: বিশ্বাস অর্জনই আসল খেলা

ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়া ব্যবসা টেকসই করা কঠিন।

ধরুন, মার্কেটে দুটি বিজনেস আছে। একটির অনলাইন প্রেজেন্স বেশ শক্তিশালী, আরেকটিকে কেউ চেনে না। আপনি একজন কনজ্যুমার (Consumer) বা বায়ার (Buyer) হিসেবে যখন কোনো কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই ব্র্যান্ডটির দিকেই ঝুঁকবেন, যাকে আপনি দেখেছেন বা যার সম্পর্কে জানেন।

সফল ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য অবশ্যই পরিকল্পনা দরকার।

আপনি হয়তো প্রোডাক্টটি ফেসবুক থেকে কেনেননি, কিন্তু ফেসবুকে বা অনলাইনে ব্র্যান্ডটিকে বারবার দেখার কারণে আপনার মধ্যে একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। অন্য একটি ব্র্যান্ড সম্পর্কে আপনার তেমন কোনো নলেজ (Knowledge) নেই। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনি পরিচিত ব্র্যান্ডটিকেই বেছে নেবেন। এখানেই মার্কেটিং তার আসল কাজটি করে গ্রাহকের মনে আস্থা তৈরি করে।

 ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা বিশ্বাস অর্জন

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করুন।

সবার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং একটি কার্যকরী সমাধান।

প্রাইজিংয়ে নিয়ন্ত্রণ: ব্র্যান্ড শক্তিশালী তো আপনিও শক্তিশালী

একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের প্রাইজিং (Pricing) এর ওপর অনেক বেশি কন্ট্রোল (Control) থাকে। যে ব্র্যান্ডের ক্রেডিবিলিটি (Brand Credibility) আছে, মানুষ তার জন্য কিছুটা বেশি পয়সা দিতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু একটি আননোন ব্র্যান্ড (Unknown Brand) দাম বাড়ালে গ্রাহক হারায়।

আপনি যদি সঠিক ভাবে (Properly) মার্কেটিং করেন এবং আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হয়, তখন প্রাইস কন্ট্রোলিংয়ে (Price Controlling) অনেক ফ্লেক্সিবিলিটি (Flexibility) পাওয়া যায়। দাম কিছুটা বাড়ালেও গ্রাহকরা আপনার ওপর আস্থা রাখবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং- এ বড় বড় বিজনেস পিছিয়ে আছে !!?? Build Trust

প্রতিযোগীদের জন্য ‘এন্ট্রি ব্যারিয়ার’ তৈরি করা

আপনার যদি মার্কেটে একটি শক্তিশালী অবস্থান থাকে, তখন নতুন কোনো কম্পিটিটর (Competitor) হুট করে এসেই আপনার মার্কেট শেয়ার নিতে পারবে না। সেইম (Same) প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে মার্কেটে এন্ট্রি (Entry) করার আগে তারা আপনাকে কনসিডার (Consider) করবে আপনার মার্কেটিং স্ট্রেংথ (Marketing Strength) এর কারণে। আপনার ব্র্যান্ডকে তারা একটি পাওয়ারফুল (Powerful) প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখবে, যা তাদের জন্য একটি ‘নো এন্ট্রি ব্যারিয়ার’ (No Entry Barrier) তৈরি করবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং- এ বড় বড় বিজনেস পিছিয়ে আছে !!?? Branding

টিকে থাকা এবং বেড়ে ওঠা: মার্কেটিং হলো বিজনেসের ব্যায়াম

মার্কেটিং ছাড়া একটি বিজনেসের লং রানে সাসটেইন (Sustain) করা বা স্কেল (Scale) করা প্রায় অসম্ভব। এটা বিজনেসের জন্য একটি হুমকির কারণ হতে পারে, যা একটি পটেনশিয়াল থ্রেট (Potential Threat)। মার্কেটিং অনেকটা এক্সারসাইজ (Exercise) করার মতো। আপনি যদি মার্কেটে ফিট (Fit) থাকতে চান, তাহলে আপনাকে নিয়মিত মার্কেটিং করে যেতেই হবে। না হলে সময়ের সাথে সাথে আপনার বিজনেস দুর্বল হয়ে পড়বে এবং প্রতিযোগীদের জন্য আপনাকে আক্রমণ করা সহজ হয়ে যাবে।

শুধু তাই নয়, একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের ইন্টারনাল (Internal) শক্তিও বেশি থাকে। ভালো কর্মীরা এমন কোম্পানিতে জব (Job) করতে গর্ববোধ করে, যাকে সবাই চেনে। এতে আপনার পে-রোল (Payroll) বা এইচআর (HR) ম্যানেজমেন্টেও সুবিধা হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং- এ বড় বড় বিজনেস পিছিয়ে আছে !!?? Marketing Builds Muscle

সুতরাং, যারা শুধুমাত্র সেলসকে কেন্দ্র করে মার্কেটিংয়ের কার্যকারিতা মাপেন, তারা আসলে বড় চিত্রটা দেখতে পাচ্ছেন না। মার্কেটিং আপনার বিজনেসের সাসটেইনিবিলিটি (Sustainability) বাড়ায়, প্রাইজিংয়ে নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়, কম্পিটিটরদের থেকে সুরক্ষা দেয় এবং গ্রাহকের মনে আস্থা তৈরি করে।

বিশেষ করে এই নতুন যুগে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মই মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, সেখানে অনলাইন প্রেজেন্স ছাড়া এগোনোর কথা ভাবাটাও বোকামি। তাই আপনার বিজনেস থেকে সরাসরি সেলস আসুক বা না আসুক, মার্কেটিং চালিয়ে যান। কারণ আজ যে ইনভেস্টমেন্ট করছেন, তার ফল আপনি পাবেন ভবিষ্যতেও একটি শক্তিশালী ও টেকসই বিজনেস হিসেবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং- এ বড় বড় বিজনেস পিছিয়ে আছে !!?? Sustainable Business

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted